৪২৫ টাকার টিকিট ৫০ টাকা
ঢাকা-খুলনা গামী আন্ত:নগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস’র কর্মচারিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুনীতি, স্বেচ্ছাচারীতা, যাত্রিদের সাথে দুর্বিনিত আচরণ আর অনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছেন বিপুল সংখ্যক যাত্রী। এমনকি ৪২৫ টাকার টিকিট মাত্র ৫০ টাকায় বিক্রিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটির যাত্রী আবুল কালাম জানান, জয়দেবপুর স্টেশন ছাড়ার পর টিকিট নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক দুর্নীতি। এ সময় ট্রেনের ভিতর কোন প্রকার টিকিট ছাড়াই একজন এ্যাটেন্ডেন্ট যাত্রীদের নিকট থেকে ভাড়া আদায় করতে থাকে, যা প্রকৃত ভাড়ার চেয়ে কম।
জামতোল স্টেশন থেকে জসিম নামে একজন যাত্রী উল্লাপাড়া যাওয়ার জন্য ওঠেন। উল্লিখিত এ্যাটেন্ডেন্ট তার নিকট থেকে ৩০ টাকা ভাড়া নেয়, এ সময় জসিম টিকিট চাইলে এ্যাটেন্ডেন্ট জানান প্রকৃত ভাড়া ৫০ টাকা। জসিম ৫০ টাকা দিতে রাজি হয়ে টিকিট দাবি করলে এ্যাটেন্ডেন্ট বিষয়টি এড়িয়ে যান। আব্দুস সাত্তার নামের যাত্রীটি ওঠেন উল্লাপড়া থেকে গন্তব্য ঈশ^রদি। উল্লাপড়া থেকে ঈশ^রদি পর্যন্ত প্রকৃত ভাড়া ৭০ টাকা, ওই এ্যাটেন্ডেন্ট সাত্তারের নিকট থেকে ভাড়া নেন ৪০ টাকা। এভাবেই চলতে থাকে ঈশ^রদি পর্যন্ত। ঈশ^রদি পৌঁছে ওই এ্যাটেন্ডেন্ট’র বস মোটাসোটা গোলগাল অল্প বয়স্ক ‘টিটিই’ নেমে যান, তার যায়গায় নতুন টিটিই গাড়িতে ওঠে, তবে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ভাড়া আদায় চলতে থাকে। এ সময় এ প্রতিবেদক ওই এ্যাটেন্ডেন্ট’র নিকট টিকিট না দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক জনের জন্য টিকিট কাটা যাবে না, কয়েক জনের টাকা নিয়ে একটা টিকিট দেওয়া হবে।
ট্রেনের ভিতর কম্পিউটার টিকিট বিক্রি ঃ এবার শুরু হয় আর এক খেলা। ওই এ্যাটেন্ডেন্ট যাত্রিদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে পকেট থেকে কম্পিউটার টিকিট প্রদান করতে থাকেন, যদিও ভাড়া বাবদ গ্রহণ করা টাকার চেয়ে প্রদেয় কম্পিউটার টিকিটের দাম অনেক বেশী। এ রকমই একটি টিকিট প্রদান করা হয় যশোর থেকে খুলনা আগমনকারি যাত্রী কাশেমকে। কাশেম’র নিকট থেকে ৫০ টাকা নিয়ে ৪২৫ টাকা মূল্যের ‘টাঙ্গাইল-টু ঢাকা’র একটি কম্পিউটার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়, যদিও যশোর থেকে খুলনার ভাড়া ৮০ টাকা বলে দাবি করেন ওই এ্যাটেন্ডেন্ট।
আন্ত:নগর ট্রেন না ভিক্ষুক পুনর্বাসন কেন্দ্র ঃ গতকাল সকালে ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ‘আন্তঃনগর ট্রেন না ভিক্ষুক পুনর্বাসন কেন্দ্র’ এ নিয়ে অভিযোগ ওঠে যাত্রীদের মাঝে। যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত শতাধিক ভিক্ষুক ট্রেনের মাঝে সারাক্ষণ চিৎকার করে ‘ভিক্ষার গান’ গেতে থাকে। এ সময় একাধিক যাত্রী কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ জানালেও তারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি।
এ সকল বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা রেল স্টেশনের স্টেশন মাষ্টার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার বলার কিছু নেই, বিষয়টি উল্লিখিত গাড়ির গার্ডকে জানাতে হবে। গার্ড কাজি মনিরুল ইসলাম’র নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়ির ভিতর কম্পিউটার টিকিট পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে এ্যাটেন্ডেন্ট কম্পিউটার টিকিট বিক্রয়ের জন্য পেলেন কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে হয়তো আগে থেকে সংগ্রহ করে থাকবে। সে ক্ষেত্রে ৪২৫ টাকার টিকিট ৫০ টাকায় বিক্রি করা এবং কম্পিউটার টিকিট গাড়ির ভিতর কি ভাবে বিক্রি করা সম্ভব জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি। প্রধানমন্ত্রী যখন দেশ থেকে ভিক্ষুক বিদায় করতে চাচ্ছেন তখন আপনার গাড়ির ভিতর এত ভিক্ষুকের অমদানি কি করে সম্ভব জানতে চাইলে গার্ড মনিরুল বলেন, যাত্রীরা চায় বলেই গাড়িতে ভিক্ষুক এবং হকারদের উঠতে দেওয়া হয়।







Visit Today : 218
Who's Online : 7
সর্বশেষ মন্তব্যসমূহ