নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় নোংরা হচ্ছে নগরীর পরিবেশ কর্তৃপক্ষ নীরব দর্শক !

নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশকেও অমান্য করে সর্বত্র ব্যানার-ফেষ্টুন লাগিয়ে ব্যাপক ভাবে নোংরা করা হচ্ছে নগরীর পরিবেশ, আর এ ক্ষেত্রে রক্ষা পাচ্ছেনা নগরীর ভাস্কর্যগুলিও। অন্যদিকে এসব দেখভালের দায়িত্বরত অথর্ব নগরকর্তৃপক্ষ বরাবরের মতই নিরবদর্শক!

রাজনীতির নামধারীরা কি আইনের উর্ধ্বে ? যে কোন সুতোনাতায় এক শ্রেনীর সুবিধাবাদি, রাজনৈতিক পরিচয় ধারীরা নগরীর সর্বত্র ব্যানার-ফেষ্টুন-পোষ্টার সেটে নগরীর পরিবেশ নোংরা করছে যা অপরাধ অথচ ‘তাদের’ দলীয় অথবা রাষ্ট্রীয় কোন আইনেরই আওতায় পড়তে হচ্ছে না।

সিটি কর্পোরেশনের আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে নগরীর যে কোন স্থানে ব্যানার-ফেষ্টুন-পোষ্টার লাগানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ, অথচ নববর্ষকে সামনে রেখে একশ্রেণীর সুবিধাবাদি মানুষ নগরীর সর্বত্র তথাকথিত শুভেচ্ছা প্রদানের নামে ব্যানার-ফেষ্টুন-পোষ্টার লাগিয়ে নগরীর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করেছে। যারা এই ব্যানার-ফেষ্টুন-পোষ্টার লাগায় কখনোই এগুলি তারা খুলে নেওয়ার দায় বহন করে না। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন (এ সকল ব্যানার-ফেষ্টুন-পোষ্টার লাগানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আগেই পার্টির তরফ থেকে জানানো হয়েছে) করে তাঁর দলের কর্মীরাই নেতা ও নেতার হাতা হওয়ার এই প্রতিযোগিতায় সর্বাগ্রগণ্য, আছে অন্যরাও।

নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করাই কি এদের লক্ষ্য ? নগরীর সোন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সাংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন ভাস্কর্য, যার মধ্যে আছে স্বাধীনতার ইতিহাস ভাস্কর্য ‘অর্জন’ (শিববাড়ি মোড়), ক্রিকেট ভাস্কর্য (ময়লাপোতা মোড়), মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য (নতুনরাস্তা মোড়)। নগর নোংরাকারীদের প্রধান আক্রমণের শিকার এই ভাস্কর্যগুলি। নোংরাকারিরা তাদের ব্যানার-ফেষ্টুন-পোষ্টারদিয়ে এ সকল ভাস্কর্যকে ঢেকে দিচ্ছে যেন কেউ তা দেখতে না পায়! যা অবশ্যই জঘণ্য কর্ম এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নগরবাসির অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মীরা তাঁর নির্দেশ মানলো কি-না তাতে নগরবাসির কিছুই যায়-আসে না। নগরবাসি তাদের রোজগারের কোটি কোটি টাকা ট্যাক্স দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন ব্যাবস্থাপনা গড়ে তুলেছে। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেতন হিসেবে দিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তা সত্বেও এক শ্রেণীর মানুষ বে-আইনী কর্মকান্ডের মাধ্যমে নগরীর পরিবেশ নোংরা করছে আর সিটি কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে!

অন্যদিকে, নগরীর উন্নয়ন, অঞ্চলের উন্নয়নের তদারকির পাহারাদার হিসেবে কত উন্নয়ন-সংগ্রাম কমিটি-উপকমিটি গড়ে উঠেছে অথচ সকলের সামনে নগর নোংরা করার উৎসব চললেও এ সকল উন্নয়নকামীদের চোখে তা পড়ছে না বা এর প্রতিরোধেও তারা এগিয়ে আসছেন না।

নগরবাসির দাবি, নগরীর মেয়র ও তার পারিষদবর্গকে অবশ্যই এ অব্যবস্থার বিরুদ্ধে অতিদ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে এ কাজে বাধ্য করতে উন্নয়ন-সংগ্রাম সংগঠন সহ সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmailby feather

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Current ye@r *