বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট প্রকাশে ব্যর্থ: আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব

বার বার সময় দেওয়ার পরও অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

ওই গেজেট প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার আরও সময় চাইল প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আট বিচারকের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। বিচারক অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, লিখিত আদেশ দিলাম না। আপনাকে মৌখিকভাবে বলছি, সোমবার সকাল ৯টায় দুই সচিবকে নিয়ে হাজির হবেন। এটা একটা মেসেজ। পারলে ওই দুইজনকে আইনের খসড়া নিয়ে হাজির হতে বলবেন। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের বিদেশে থাকার কথা বলে গেজেট প্রকাশের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট আদালতে দাখিল করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা হয়। সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। ওই তারিখে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় এলে অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো অগ্রগতি জানাতে না পারায় বিধিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা লিখিতভাবে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরদিন অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনটি ‘অস্পষ্ট’ জানিয়ে আট সপ্তাহ সময় না দিয়ে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে জারি এবং আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। এরপর আরও দুই দফায় সাত দিন করে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় সরকারকে।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmailby feather
ট্যাগসমূহঃ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Current ye@r *