সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রগতিশীল বুদ্ধীজীবী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে আজ ৫ মার্চ সকাল ১১টায় ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বতস্ফুর্ত এ মানববন্ধনের সাথে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান সংহতি প্রকাশ করেন। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ শিক্ষার্থীদের এই মানবন্ধনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে পরিষদের পক্ষে সভাপতি প্রফেসর ড. অনির্বাণ মোস্তফা বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রুপক সাহা, নোমান, স্বাধীন, মোক্তাদিরুল কাদের, শারমিন আক্তার সুবহা, আজবীয়া খান এশা, কাঞ্চন রায়, গণেশ চক্রবর্তী, অর্ণব, শাহরিয়ার, আল আমিন হাজরা, মুশফিক, সুচিরা দাশ প্রমুখ। শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক জাফর ইকবালকে তরুণদের স্বপ্ন দেখানোর পথিক, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে তরুণদের সামনে আনার পথপ্রদর্শক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার উজ্ঝল নক্ষত্র, জাতির বিবেক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন তাঁর ওপর হামলা মানেই আমাদের বিবেকের ওপর হামলা, মস্তিস্কের ওপর হামলা, মুক্তচিন্তার ওপর হামলা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর হামলা, আমাদের মননের ওপর হামলা। ভবিষ্যতে যাতে কোনো পরাজিত অপশক্তি এধরনের হামলা না করতে পারে সেজন্য শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ছাত্র-ছাত্রীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে, তারা জেগে উঠলে আর কোনো পরাজিত, ধর্মান্ধ শক্তি হামলার সাহস পাবে না। প্রফেসর ড. অনির্বাণ মোস্তফা বলেন আঘাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এসেছে। এখনও আঘাত আসছে। এ ধরনের আঘাত, হামলার ভয় পেলে চলবে না, মৃত্যু প্রতিটি মানুষ জন্মের সময় সাথে করে নিয়ে আসে। তাই মৃত্যু যেনো তোমাকে মেরে না ফেলে। বরং তোমার কাজ তুমি দেশকে কি দিতে পেরেছো। যারা মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন তাদের কি মৃত্যু হয়েছে, তারা তো অমর। তারা তো স্বাধীন দেশ দিয়েছে। তাই এ ধরনের হামলায় ভয় পেলে চলবে না। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই হতে হবে। শিক্ষকের নিরাপত্তায় ছাত্রছাত্রীরা আর ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা দেবে শিক্ষকরা। এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এ ধরনের অপশক্তি হামলার সাহস পাবে না। মানববন্ধন থেকে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীসহ এর নেপথ্য সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।








Visit Today : 467
Who's Online : 24
সর্বশেষ মন্তব্যসমূহ