নদী বাঁচাতে পারলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে: উপাচার্য

খুলনায় নদী অলিম্পিয়ার্ডের বিভাগীয় পর্বের উদ্বোধন:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ ফায়েক উজ্জামান বলেছেন, নদী বাঁচাতে পারলে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য এবং দেশের আবহমান কালের যে সংস্কৃতি নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে তা আবার জাগিয়ে তুলতে পারবো। তিনি বলেন নদী আমাদের কৃষ্টি, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একটি মহতি উদ্যোগ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। তিনি বলেন, আমাদের পাশেই রয়েছে ময়ূর নদী। সেই নদী আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা যদি চায়, এই নদীতে কোনো নোংরা আবর্জনা ফেলা যাবে না-তাহলে এই নদী বেঁচে যাবে। ময়ূর নদী সংরক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের খাল সংরক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জীবনানন্দ দাস একাডেমিক ভবন চত্বরে জাতীয় নদী অলিম্পিয়াডের খুলনা বিভাগীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। রিভারাইন পিপল ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশ যৌথভাবে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ ফায়েক উজ্জামান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর সাবিহা হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. অনির্বাণ মোস্তফা। ছাত্রবিষয়ক পরিচালক বলেন আমরা জাতীয় সঙ্গীত সবাই গাই কিন্তু কতজনে এর মর্ম বুঝি, ধারণ করি তা সন্দেহ আছে। এই জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যেও নদীর কথা উল্লেখ আছে। তিনি বলেন আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিতে রোড আছে, ব্রিজ আছে, ফ্লাইওভার আছে কিন্তু নদী নেই। আমরা যারা সমাজ চালাই তাদের মধ্যে নদী বিষয়ে সচেতনতা থাকতে হবে। আমাদের মানুষিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। তিনি আরও বলেন আমাদের দেশের নদীর সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে। নদী আমাদের স্বকীয়তার পরিচয় বহনকারী । নদীতে কিছু না ফেলার মতো অন্তত একটি বিষয়ে মেনে চলার জন্য তিনি আহবান জানান।

উদ্বোধনের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্বে অলিম্পিয়াডে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন নদীবিষয়ক ১ ঘণ্টার এমসিকিউ পরীক্ষায়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম ২০ জনকে জাতীয় নদী অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত আসরে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে তাদের হাতে সনদ ও টি-শার্ট তুলে দেন অতিথিরা।

খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাসেল মুন্সী, মহাসিনা আক্তার, সৈয়দ আলীম আল রাজীব, বিএল কলেহের শাহনুর রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তনয় বিশ্বাস, মেহেদী হাসান শান্ত, আল আমিন, এ এস এম শাকিল নিয়াজ, নাবিল হাসান, শরীফ মুতাসিম বিল্লাহ, সুবর্ণা আখতার, তিমির বিশ্বাস, এহসান নেওয়াজ, জান্নাতুল ফেরদৌস, আল ফাহাদ হোসেন, সৈয়দ হাসিব আলী, কাজী রিফাত মামুন, বারিউল মুছাদ্দির, মিলটন রায় ও শারমিন আকতার।

অলিম্পিয়াডের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিভারাইন পিপলের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেন। সমকালের ব্যুরো প্রধান মামুন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, উলাসী সৃজনী সংঘের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মনি, প্রগতির নির্বাহী পরিচালক আশেক-ই-এলাহী, রিভারাইন পিপলের পরিচালক তুহিন ওয়াদুদ, জলপরিবেশ ইনস্টিটিউটে চেয়ারম্যান ইনামুল হক, উন্নয়ন ধারার নির্বাহী পরিচালক, শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ খুলনার আহ্বায়ক হাসান মেহেদী, সমকালের সহ-সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার হাসান হিমালয়, সুশীলনের প্রকল্প সমন্বয়কারী উজ্জ্বল দাস।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmailby feather
ট্যাগসমূহঃ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Current ye@r *