করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভা আজ (সোমবার) সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলাপ্রশাসন সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মোঃ কামাল হোসেন অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
সভায় সিটি মেয়র বলেন, জেলায় প্রতিদিনই করোনা রোগী বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বাধ্যতামূলকভাবে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় গণজামায়েত পরিহার করতে বলেন। মেয়র মেডিকেল কলেজে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সাথে এক জনের বেশি অভিভাবক পরীক্ষা কেন্দ্রে না আসতে অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি কোচিং সেন্টার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসককে আহবান জানান।
তবে নগরবাসির অভিযোগ, নিয়মিত তদারকিতে প্রশাসনের গাছাড়া ভাব অবহেলা আর দায়িত্ব পালনে কঠোর মনভাবের অভাবের কারণেই করনা সংক্রমণ মানুষের মাঝে গুরুত্ব পাচ্ছেনা। নগরবাসির দাবি প্রশাসনকে আরও নিয়মিত এবং কঠোরভাবে করনা প্রতিরোধে কাজ করতে হবে এবং যে সকল কর্মকান্ড করনা সংক্রমণ বৃদ্ধি করে তা প্রত্যক্ষভাবে বন্ধ করতে হবে, এ ক্ষেত্রে অনুরোধ-উপরোধ করার কোনো সুযোগ নেই।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযোজনের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন প্লান্টটি জরুরি ভিত্তিতে একশত দুই শয্যার করোনা ওয়ার্ডে সংযোজন করা দরকার। করোনাভাইরাস শনাক্তে বেশি লোকের নমুনা পরীক্ষার জন্য খুলনায় আরও একটি আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপন করা প্রয়োজন।
সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খুলনা জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে পাইকগাছায় করোনা সংক্রমণের হার বেশি। গতকাল খুলনায় দুইশত ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। খুলনায় এপর্যন্ত এক লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন নিলেও মাস্ক পরিধানের কোন বিকল্প নেই।
জেলা প্রশাসক বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত বৃহৎ পরিসরে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। খুলনায় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে এর মালিকদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরবর্তীতে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে।
সভায় খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ এহসান শাহ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, সরকারি কর্মচারীসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।








Visit Today : 593
Who's Online : 2
সর্বশেষ মন্তব্যসমূহ